হাওজা নিউজ এজেন্সি: আয়াতুল্লাহ আলী রেজা আ’রাফি বলেন, ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর নৈকট্য অর্জন, আত্মশুদ্ধি, আত্মসংযম এবং গভীর আত্মসমালোচনার মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও সামাজিক চরিত্র গঠন। যদি এই আধ্যাত্মিক দর্শন যথাযথভাবে ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে ইতিকাফ সমাজে একটি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক আন্দোলনে পরিণত হতে পারে।
জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা
আয়াতুল্লাহ আ’রাফি জোর দিয়ে বলেন, ইতিকাফ অবশ্যই জনগণভিত্তিক হতে হবে। এটি যেন কেবল নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা সীমিত শ্রেণির মধ্যে আবদ্ধ না থাকে। সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম—যাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশগ্রহণ করতে পারে, সে জন্য ইতিকাফের পরিবেশ, কার্যক্রম ও বিষয়বস্তু সহজ, আকর্ষণীয় ও বোধগম্য করে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, জনগণের সক্রিয় উপস্থিতি ইতিকাফকে একটি জীবন্ত ও বাস্তবমুখী আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতায় রূপ দেয়, যা ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি সমাজের নৈতিক কাঠামোকেও শক্তিশালী করে।
যুবসমাজের ধর্মীয় ও চিন্তাগত নিরাপত্তা
বক্তব্যে আয়াতুল্লাহ আ’রাফি উল্লেখ করেন, বর্তমান যুগে যুবসমাজ নানা ধরনের চিন্তাধারা, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও বিভ্রান্তিকর তথ্যপ্রবাহের সম্মুখীন হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইতিকাফ যুবকদের জন্য একটি নিরাপদ আধ্যাত্মিক ও চিন্তাগত আশ্রয়স্থল হতে পারে, যেখানে তারা আত্মপরিচয়, বিশ্বাস ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে দৃঢ়তা অর্জন করবে।
তিনি বলেন, ইতিকাফ যুবসমাজকে দায়িত্বশীল, আত্মসংযমী ও ধর্মীয়ভাবে সচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও স্থায়িত্ব
আয়াতুল্লাহ আ’রাফির মতে, ইতিকাফকে ফলপ্রসূ ও টেকসই করতে হলে সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষিত জনবল এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। ইতিকাফ যেন কেবল কয়েকদিনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি ধারাবাহিক আধ্যাত্মিক ও শিক্ষামূলক প্রক্রিয়ার অংশ হয়—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে।
সমন্বিত নেটওয়ার্ক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা
তিনি ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বিত নেটওয়ার্ক গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর মতে, পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে ইতিকাফ কর্মসূচিকে আরও সমৃদ্ধ, বিস্তৃত ও কার্যকর করা সম্ভব।
ইতিকাফকে আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি থেকে বের করে একটি জীবন্ত, জনগণভিত্তিক ও যুবকেন্দ্রিক আধ্যাত্মিক আন্দোলনে রূপান্তর করতে হবে, যাতে এটি ব্যক্তি ও সমাজের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নে দীর্ঘস্থায়ী ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আপনার কমেন্ট